দেশের খবর
‘নো ইন্স্যুরেন্স, নো ফুয়েল’! বিমা না থাকলে মিলবে না পেট্রল, সুপ্রিম কোর্টের নতুন প্রস্তাব
ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশের রাস্তায় চলা বিমাহীন (Uninsured) গাড়ির সংখ্যা কমাতে বড় পদক্ষেপের প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এবার বৈধ মোটর বিমা (Motor Insurance) না থাকলে পেট্রল পাম্পে জ্বালানি (Fuel) না দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রক (MoRTH) এবং বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই (IRDAI)-কে একটি পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্প (Pilot Project) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাব অনুযায়ী, পেট্রল বা ডিজেল দেওয়ার আগে গাড়ির বিমার বৈধতা (Insurance Validity) যাচাই করা হতে পারে। যদি কোনও গাড়ির বৈধ থার্ড পার্টি বিমা (Third Party Insurance) না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা হতে পারে। তবে এই নিয়ম এখনই গোটা দেশে চালু হচ্ছে না, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের পরিকল্পনা।
আদালতের নজরে এসেছে, দেশের বিপুল সংখ্যক গাড়ি বৈধ বিমা ছাড়াই রাস্তায় চলছে। সংসদীয় রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ কোটি ৪৮ লক্ষ নিবন্ধিত গাড়ির মধ্যে প্রায় ১৬ কোটি ৫৪ লক্ষ গাড়ির বিমা নেই। অর্থাৎ প্রায় ৫৬ শতাংশ গাড়ি বিমার আওতার বাইরে রয়েছে।
বিমাহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আরও কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর (Technology Based) পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে রয়েছে ANPR (Automatic Number Plate Recognition) ক্যামেরাকে ‘বাহন’ (VAHAN) ডেটাবেস এবং বিমা তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা। এর ফলে রাস্তায় চলা গাড়ির নম্বর স্ক্যান করেই বিমার তথ্য জানা যাবে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-চালান (E-Challan) তৈরি করা সম্ভব হবে।
এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের হাতে বিশেষ অ্যাপ বা ডিভাইস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েই গাড়ির বিমার তথ্য যাচাই করা যায়।
নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি বিমার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। চার চাকার গাড়ির জন্য বিমার মেয়াদ তিন বছর থেকে চার বছর এবং দু’চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর থেকে ছয় বছর করার কথা বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি চালু হলে দুর্ঘটনার শিকার মানুষ দ্রুত ক্ষতিপূরণ (Compensation) পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং সড়ক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
